
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট দুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং সব সরকারি সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এক সভায় দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
## দুর্গত মানুষের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তাই কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
## ত্রাণে স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান

দুর্যোগকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
## বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, উদ্ধার কার্যক্রম, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগেও নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
