নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট

এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়: একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন, খালাস ৪
প্রায় ছয় বছর আগে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘটিত দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলায় আট আসামির মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।
কার কী সাজা হলো
আদালতের রায় অনুযায়ী, সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে রবিউল হাসান, মাহফুজুর রহমান মাসুম, আইনুদ্দিন (আইনুল) এবং মিসবাউল ইসলাম রাজনকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে এসে রায় পড়া শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ শেষে দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
যে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশ
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
সে সময় ধর্ষণের শাস্তি আরও কঠোর করার দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়।
ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর ১০ মাস পর বহুল প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় ঘোষণা হলো, যা দেশের অন্যতম আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
