Thursday, August 20

ভারতে চিকিৎসক স্বামী নিহত, রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার শিশু; বিছানায় মোবাইল হাতে স্ত্রীকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত

কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে চিকিৎসক নিহত ও শিশুপুত্র আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধারওয়াড়ে একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের মরদেহ এবং তার আহত শিশুপুত্রকে উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় একই ফ্ল্যাটে চিকিৎসক স্ত্রীকে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ পারিবারিক বিরোধকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনায় নিহত চিকিৎসকের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে একাধিক দিক তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চিকিৎসকের মরদেহ, আহত সন্তান—একই ফ্ল্যাটে ভয়াবহ দৃশ্য

পুলিশ জানায়, নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোনান্নাভার (৪৫)। তিনি পেশায় অ্যানেস্থেটিস্ট ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

দীর্ঘ সময় ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনরা ধারওয়াড়ের কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয় রোড এলাকার রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টসে অবস্থিত তার ফ্ল্যাটে যান। দরজা না খোলায় পরে জোর করে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ডা. কিরণের মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে তার আট বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ, বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ

ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্ত্রী, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

তদন্তকারীরা আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা যখন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, তখন বিভিন্ন সময়ে ফোন রিসিভ করে ডা. প্রিয়াঙ্কা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। প্রথমে তিনি জানান, তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন। পরে বলেন, তিনি বাইরে গেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য: ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

নিরাপত্তাবেষ্টিত ভবন, বাইরের কেউ ঢুকেছিল কি?

ঘটনাটি যে অ্যাপার্টমেন্টে ঘটেছে, সেটি নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি আবাসিক ভবন। এ কারণে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনার সময় বাইরের কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেননি।

তবে এই ধারণা নিশ্চিত করতে পুলিশ—

  • অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে।
  • ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
  • উভয় পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
  • ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত শিশুর অবস্থাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

আহত আট বছর বয়সী শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সে অটিজমে আক্রান্ত। তবে এ তথ্যও পুলিশ যাচাই করছে।

তদন্তকারীদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা উন্নত হলে তার কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যদি সে বক্তব্য দেওয়ার মতো অবস্থায় আসে।

ধারওয়াড়ের এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একজন চিকিৎসকের মৃত্যু, তার শিশুসন্তানের গুরুতর আহত হওয়া এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসক স্ত্রীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। পুলিশ বলছে, সব ধরনের আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Toggle Dark Mode