নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ (মঙ্গলবার) ঘোষণা করা হবে। দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেওয়া এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলার পর এখন সবার নজর আদালতের রায়ের দিকে।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেন।
২০২০ সালের সেই রাত: কী ঘটেছিল এমসি কলেজে?
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যান এক গৃহবধূ। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক ছাত্রাবাসে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বামীকেও আটকে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হলে প্রধান আসামিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও দুইজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত চলাকালে একাধিক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন, অন্যরা সহযোগিতার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ডিএনএ প্রমাণ, সাক্ষ্য ও দীর্ঘ বিচার শেষে রায়ের অপেক্ষা
তদন্তে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের নমুনার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়।
মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগী নারী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
এদিকে, ঘটনার রাতে এক আসামির কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক অস্ত্র মামলা এবং ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আজকের রায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের জন্যই নয়, বরং নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারপ্রত্যাশী সমাজের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।
