নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেনী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৬টি সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সরকারি কর্মচারী আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। মামলায় গ্রেপ্তারের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাদের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ফুলগাজী আমলি আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম অভিযুক্তদের জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
২৬টি সরকারি চেক জালিয়াতির মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের ২৬টি সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা পরিষদের সাবেক কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলামকে। এর মধ্যে পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত রয়েছেন।
চেক জালিয়াতি মামলার তদন্ত এখন দুদকের হাতে
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের আইনগত দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। সে কারণে থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আকারে দাখিল করে তদন্তের জন্য দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে দুদকের নজরেও এসেছে।
মামলার বাদী আবদুল হালিম চৌধুরী জানান, জামিন শুনানির বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। এমনকি আদালতে উপস্থিত থাকার সুযোগ কিংবা বাদীপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে, ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিসাত তাবাচ্ছুম বলেন, “উপজেলা পরিষদের এজাহারের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আইনগত পর্যালোচনায় এটি পুলিশের তদন্তসীমার বাইরে হওয়ায় মামলাটি দুদকে পাঠানো হয়েছে।” অভিযুক্তদের জামিন কিংবা অব্যাহতির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দুদকের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
এদিকে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুদকের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
